হস্তমৈথুন ছাড়ার উপায় কী?


নিয়মিত হস্তমৈথুন শরীরের জন্য ভালো। তবে এটা খুব বেশি করলে এবং সেই অনুপাতে শরীরের যত্ন না নিলে শারীরিক ও মানসিক ভাবে ক্লান্তি আসতে পারে। এটা যাতে নেশায় পরিনত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যাদের কাছে এটা নেশার মত মনে হয়, এবং মনে প্রাণে কমিয়ে দিতে চাইছেন, তাদের জন্য কিছু ব্যবস্থা করণীয় হতে পারে-
১. প্রথমেই মনে রাখতে হবে, হস্তমৈথুন বা স্বমেহন কোন পাপ বা অপরাধ নয়। এটা প্রাণীদের একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটা করে ফেলে কোন প্রকার অনুশোচনা, পাপ, বা অপরাধবোধে ভুগবেন না। এমন হলে ব্যাপারটা সব সময় মাথার মধ্যে ঘুরবে এবং এ থেকে মুক্তি পেতে আবার এটা করে শরীর অবশ করে ফেলতে ইচ্ছে হবে।
মনে রাখবেন আপনি মানুষ। আর মানুষ মাত্রই ভুল করে। এটা করে ফেলার পর যদি মনে করেন ভুল হয়ে গেছে তো সেজন্য অনুশোচনা করবেন না। নিজেকে শাস্তি দেবেন না। বরং দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হোন যাতে ভবিষ্যতে মন শক্ত রাখতে পারেন।
২. যেসব ব্যাপার আপনাকে হস্তমৈথুনের দিকে ধাবিত করে, সেগুলো ছুড়ে ফেলুন, সেগুলো থেকে দূরে থাকুন।
যদি মাত্রাতিরিক্ত হস্তমৈথুন থেকে সত্যি সত্য মুক্তি পেতে চান তাহলে পর্ণ মুভি বা চটির কালেকশন থাকলে সেগুলো এক্ষুনি নষ্ট করে ফেলুন। পুড়িয়ে বা ছিড়ে ফেলুন। হার্ডড্রাইব বা মেমরি থেকে এক্ষুনি ডিলিট করে দিন। ইন্টারনেট ব্যবহারের আগে ব্রাউজারে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল-এ গিয়ে এডাল্ট কন্টেন্ট ব্লক করে দিন।
কোন সেক্স টয় থাকলে এক্ষুনি গার্বেজ করে দিন।
কোন কোন সময় হস্তমৈথুন বেশি করেন, সেই সময়গুলো চিহ্নিত করুন। বাথরুম বা ঘুমাতে যাওয়ার আগে যদি উত্তেজিত থাকেন, বা হঠাত কোন সময়ে যদি এমন ইচ্ছে হয়, তাহলে সাথে সাথে কোন শারীরিক পরিশ্রমের কাজে লাগে যান। যেমন বুকডন বা অন্য কোন ব্যায়াম করতে পারেন। যতক্ষণ না শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়, অর্থাৎ হস্তমৈথুন করার মত আর শক্তি না থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই কাজ বা ব্যায়াম করুন। গোসল করার সময় এমন ইচ্ছে জাগলে শুধু ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করুন এবং দ্রুত গোসল ছেড়ে বাথরুম থেকে বের হয়ে আসুন।
অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। সব সময় কোন না কোন কাজে ব্যস্ত থাকুন। আগে থেকে সারাদিনের শিডিউল ঠিক করে রাখুন। তারপর একের পর এক কাজ করে যান। হস্তমৈথুনের চিন্তা মাথায় আসবে না।
যারা একা একা সময় বেশি কাটায়, যাদের বন্ধুবান্ধব কম, দেখা গেছে তারাই ঘনঘন হস্তমৈথুন বেশি করে। একা একা না থেকে বন্ধুবান্ধবদের সাথে সময় কাটান। একা একা টিভি না দেখে বন্ধুদের সাথে কিছু করুন। বন্ধুবান্ধব না থাকলে ঘরে বসে না থেকে পাবলিক প্লেসে বেশি সময় কাটান।
৩. বসে না থেকে সময়টা কাজে লাগান। জীবনকে সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড দিয়ে ভরিয়ে তুলুন। সব সময় নতুন কিছু করার দিকে ঝোঁক থাকলে হস্তমৈথুনের ব্যাপারটা মাথা থেকে দূর হয়ে যাবে। এই সাথে আরো সব বাজে জিনিসগুলোও জীবন থেকে হারিয়ে যাবে। নতুন ভাবে জীবনকে উপলব্ধি করতে পারবেন, বেঁচে থাকার নতুন মানে খুঁজে পাবেন।
সৃষ্টিশীল কাজে জড়িয়ে পড়ুন। লেখালেখি করতে পারেন, গান-বাজনা শিখতে পারেন, আঁকাআঁকি করতে পারেন, অথবা আপনি যা পারেন সেটাই করবেন।
নিয়মিত খেলাধূলা করুন। ব্যায়াম করুন। এতে মনে শৃঙ্খলাবোধের সৃষ্টি হবে। নিয়মিত হাঁটতে পারেন, দৌড়াতে পারেন, সাঁতার কাটতে পারেন, জিমে গিয়া ব্যায়াম করতে পারেন। বিকেলে ফুটবল, ক্রিকেট- যা ইচ্ছে, কিছু একটা করুন।
স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার খাবেন। ফলমূল-শাকসবজি বেশি খাবেন।
নতুন কোন শখ বা হবি নিয়ে মেতে উঠুন। বাগান করতে পারেন, নিজের রান্না নিজে করতে পারেন, আরো কত কিছু আছে করার। আপনি যা করতে বেশি পছন্দ করেন, সেটাই করবেন। কিছুদিন পর আবার আরো নতুন কিছু করতে বা জানতে চেষ্টা করুন।
অফুরন্ত সময় থাকলে সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ুন। দেশ ও দশের জন্য সেবামূলক কাজে জড়িত হোন।
৪. ধৈর্য ধরতে হবে। একদিনের একটা নেশা থেকে মুক্ত পাবেন, এমন হবে না। একাগ্রতা থাকলে ধীরে ধীরে যে কোন নেশা থেকেই বের হয়ে আসা যায়। মাঝে মাঝে ভুল হয়ে যাবে। তখন হতাশ হয়ে সব ছেড়ে দেবেন না। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার আগাতে হবে।
ভালো কাজ করলে নিজেকে নিজে নিজে পুরস্কৃত করবেন। ভালো কোন জায়গাত ঘুরতে যাবেন। ভালো কোন রেস্টুরেন্টে গিয়ে খেয়ে আসবেন। নিজেকে ছোট ছোট গিফট কিনে দেবেন এবং সেগুলো চোখের সামনে রাখবেন এবং মনে করবেন যে অমুক ভালো কাজের জন্য এই জিনিসটা পেয়েছিলেন।
৫. অপরের সাহায্য নিতে ভুল করবেন না। রাতের বেলা হস্তমৈথুন করলে কারো সাথে রুম শেয়ার করুন। বা দরজা জানালা খোলা রেখে আলো জ্বালিয়ে ঘুমান। যখন দেখবেন যে সব চেষ্টা করেও একা একা সফল হতে পারছেন না, তখন বন্ধুবান্ধব, পরিবার, ডাক্তার- এদের সাহায্য নেয়া যায়। এখানে লজ্জার কিছু নাই।
###########
কিছু টিপস:
১. ঘুমে সমস্যা হলে তখন সুগার ফ্রি মিন্টস্‌ বা ক্যাণ্ডি চিবাতে পারেন। হালকা কিছু খেলেও তখন উপকার হয়। তবে ঘুমিয়ে পড়ার আগে দাঁত ব্রাশ করে নেবেন।
২. কম্পিউটারে পর্ণ ব্লকিং সফটওয়ার ইনস্টল করে নিন। আজব একটা পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখেন যাতে পরে ভুল যান। অথবা কোন বন্ধুকে দিয়ে পাসওয়ার্ড দিন। নিজে মনে রাখবেন না।
৩. কম্পিউটারে পর্ণ দেখতে দেখতে হস্তমৈথুন করলে কম্পিউটার লিভিং রুমে নিয়ে নিন যাতে অন্যরাও দেখতে পায় আপনি কী করছেন। এতে পর্ণ সাইটে ঢোকার ইচ্ছে কমে যাবে।
৪. হস্তমৈথুন একেবারেই ছেড়ে দিতে হবে না। নিজেকে বোঝাবেন যে মাঝে মাঝে করবেন। ঘনঘন নয়।
৫. যারা বাজে বিষয় নিয়ে বা মেয়েদের নিয়ে বা পর্ণ মুভি বা চটি নিয়ে বেশি আলোচনা করে, তাদেরকে এড়িয়ে চলুন।
৬. যখন দেখবেন খুব বেশি হস্তমৈথুন করতে ইচ্ছে হচ্ছে এবং নিজেকে সামলাতে পারছেন না, বাইরে বের হয়ে জোরে জোরে হাঁটুন বা জগিং করুন।
৭. সন্ধ্যার সময়ই ঘুমিয়ে পড়বেন না। কিছু করার না থাকলে মুভি দেখুন বা বই পড়ুন।
৮. ভিডিও গেম খেলতে পারেন। এটাও হস্তমৈথুনের কথা ভুলিয়ে দেবে।
৯. হস্তমৈথুনে চরম ভাবে এডিক্টেড হলে কখনোই একা থাকবেন না, ঘরে সময় কম কাটাবেন, বাইরে বেশি সময় কাটাবেন। জগিং করতে পারেন, সাইকেল নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। ছাত্র হলে ক্লাসমেটদের সাথে একসাথে পড়াশুনা করতে পারেন। লাইব্রেরি বা কফি শপে গিয়ে সময় কাটাতে পারেন।
১০. সেক্সুয়াল ব্যাপারগুলো একেবারেই এড়িয়ে চলবেন। এধরনের কোন শব্দ বা মন্তব্য শুনবেন না।
১১. ছোট ছোট টার্গেট সেট করুন। ধরুন প্রথম টার্গেট টানা দুইদিন হস্তমৈথুন করবেন না। দুইদিন না করে পারলে ধীরে ধীরে সময় বাড়াবেন।
১২. যখন তখন বিছানায় যাবেন না। কোথাও বসলে অন্যদের সঙ্গ নিয়ে বসুন।
১৩. বাথরুম শাওয়ার নেয়ার সময় হস্তমৈথুনের অভ্যাস থাকলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাথরুম থেকে বের হয়ে আসতে চেষ্টা করুন।
১৪. যখনি মনে সেক্সুয়াল চিন্তার উদয় হবে, তখনই অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করবেন।
১৫. মেয়েদের দিকে কুনজরে তাকাবেন না। তাদের ব্যাপারে বা দেখলে মন আর দৃষ্টি পবিত্র করে তাকাবেন। নিজের মা বা বোন মনে করবেন।
১৬. হাতের কব্জিতে একটা রাবারের ব্যান্ড লাগিয়ে নেবেন। সেক্সুয়াল চিন্তার উদয় হলে তুড়ি বাজাতে পারেন, পা দোলাতে পারেন- এতে কুচিন্তা দূর হয়ে যাবে।
১৭. যতটা সম্ভব নিজেকে ব্যস্ত রাখুন।
১৮. যে কোন উপায়ে পর্ণমুভি আর চটি এড়িয়ে চলুন।
১৯. বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সবার সাথে বেশি সময় কাটান।
২০. ধ্যান বা মেডিটেশন করতে পারেন। যোগ ব্যায়াম করতে পারেন।
২১. নিজের পরিবারের কথা চিন্তা করবেন, আপনার সাথে যারা আছে তাদের কথা ভাববেন।
২২. বাড়িতে বা রুমে কখনো একা থাকবেন না।
২৩. কোনদিন করেন নাই, এমন নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন।
২৪. উপুর হয়ে ঘুমাবেন না।
২৫. বিকেলের পরে উত্তেজক ও গুরুপাক খাবার খাবেন না।
২৬. গার্লফ্রেণ্ড বা প্রেমিকাদের সাথে শুয়ে শুয়ে, নির্জনে বসে প্রেমালাম করবেন না।
২৭. ফোনসেক্স এড়িয়ে চলুন।
[আরো টিপস মনে এলে এখানে পরে আপডেট করা হবে। লেখাটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দিন।]

মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথা – কী করণীয়?


মাসিকের সময় তলপেটে ব্যথা আমাদের দেশে একটা কমন ব্যাপার। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এই ব্যথা এড়িয়ে চলা যায়।
কোন বোতলে গরম পানি ভরে বা কাপড় গরম করে তলপেটে ২০/২৫ মিনিট ছ্যাক লাগাতে হবে। এটা সপ্তাহে টানা ৩/৪ দিন করে করতে হবে। এতে ধীরে ধীরে মাসিকের সময় ব্যাথা কমে যাবে।
এছাড়া আরেকটা পদ্ধতি আছে- সিজ বাথ। ৩ মিনিট গরম পানিতে কোমর ডুবিয়ে বসে থাকতে হবে। পরের ২/১ মিনিট ঠাণ্ডা পানিতে। এভাবে ২০/২৫ মিনিট সিজ বাথ নিতে হবে। এটাও সপ্তাহে টানা ৩/৪দিন নিতে হবে। শুধু পানি বা পানিতে কিছু লবন, বেকিং সোডা বা ভিনেগারও ব্যবহার করা যায়।
আরেকটা পদ্ধতি আছে- কেজেল ব্যায়াম। এটাও খুব উপকারী।
এগুলো করলে যোনি মধ্যে রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত না হয়ে আবার ঠিকঠাক হয়ে যাবে, ব্যাথাও কমে যাবে।
আমাদের দেশের অনেক মেয়েদেরই শারীরিক ফিটনেস ভালো নয় বলে এরকম সমস্যা বেশি হয়। একে একে এই পদ্ধতিগুলোর কথা সবাইকে বলে দিন। একজন আরেকজনকে বলে দিন। এই অবাঞ্চিত সমস্যা থেকে মুক্ত থাকুক আমাদের নারী সমাজ।

পিরিয়ড সমস্যার প্রাকৃতিক সমাধান


অনিয়মিত ঋতুচক্র বা মাসিক এর কারণে তীব্র ব্যথাসহ কতরকম সমস্যাই থাকে একে কেন্দ্র করে। এর প্রভাব পড়ে মনের উপর। ফলে মনমেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে আয়ুর্বেদিক প্রতিকারের কথা যা এই সমস্যাকে পুরোপুরি দূর করতে না পারলেও পিরিয়ডের ব্যথা ও অস্বস্তির প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
ডিম্বাশয়ের পলিসিস্টিক রোগের জন্য: ‘পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ’ এক ধরনের শারীরিক অবস্থা যা প্রতি ১০ জন মহিলার মধ্যে দেখা যায়। নারীদের একটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে এটি হয়। যার পরিণতিতে শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং এর নানা রকমের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শরীরে দেখা যায়। ফলে নারীদের ওজন বৃদ্ধি, পেলভিসে ব্যথা, ব্রণ, হতাশা এবং রজঃচক্রের অনিয়ম দেখা যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে এই রোগে আক্রান্ত নারীদের গর্ভধারণ বিষয়ক নানা রকমের জটিলতাও দেখা দেয়।
তবে সঠিক চিকিৎসা, ডায়েট এবং শরীরচর্চার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।
অতিরিক্ত রক্ত প্রবাহ: অনেকেরই টানা ছয় থেকে সাত দিন অতিরিক্ত রক্ত প্রবাহ বা ‘ম্যানোরাজিয়া’ থাকায় দুর্বলতাসহ নানা রকমের শারীরিক সমস্যা দেখা যায়। এই রোগের জন্য নিরাঞ্জন ফল নামক একটি চায়না ফল বেশ কার্যকর।
নিরাঞ্জন ফল এক থেকে দেড় ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন যেন তা ফুলে লেবুর আকৃতি ধারণ করে। এরপর তা ভালোভাবে চিপে নিয়ে এর ভিতরের অংশ সামান্য চিনি মিশিয়ে পান করুন। এটা রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
লিউকোরিয়া: সাদাস্রাব বেশি হয়ে থাকে রজঃচক্রের আগে আগে। এটা যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধি করে। তবে এর অতিরিক্ত ক্ষরণ মোটেও স্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়।
অতিরিক্ত প্রবাহ, রংয়ের পরিবর্তন ও ঘনত্বের পুরুত্ব এর সংক্রমণ নির্দেশ করে।
প্রতিদিন দুএকটি কলা খাওয়ার মাধ্যমে এই সমস্যা কমিয়ে আনা যায়।
মনে রাখতে হবে, এটা কেবল আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার সাধারণ কিছু উপকারিতার কথা বলা হয়েছে। তবে যে কারও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
(সৌজন্যে : জাগরণীয়া)

আমলকীর তেল


আমলকীতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। আমলকীর তেল নিয়মিত ব্যবহার করলে শুধু চুল পড়াই বন্ধ হয় না, পাশাপাশি চুল হয় ঝলমলে। খুশকি দূর করলেও আমলকীর তেলের জুড়ি নেই।

চুলের যত্নে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন আমলকীর তেল। জেনে নিন কীভাবে তৈরি করবেন-
যা যা লাগবে
আমলকী
নারিকেল তেল
অলিভ অয়েল
যেভাবে তৈরি করবেন

কয়েকটি তাজা আমলকী থেকে বিচি বের করে নিন। আমলকীর টুকরা গ্রিন্ড করে রস বের করুন।
একটি পাত্রে ২ ভাগ আমলকীর রসের সঙ্গে ১ ভাগ নারিকেল তেল মেশান। সামান্য অলিভ অয়েল মেশাতে পারেন। তবে তেলের পরিমাণ যেন আমলকীর রসের চাইতে বেশি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখবেন।
মিশ্রণটি চুলায় মাঝারি আঁচে রাখুন ৫ থেকে ১০ মিনিট। তেল নামিয়ে ঠাণ্ডা করুন।
ছেঁকে বোতলে সংরক্ষণ করুন আমলকীর তেল।
আমলকীর তেলের উপকারিতা
  • গোসল করার ৪৫ মিনিট আগে আমলকীর তেল মাথার তালুতে ম্যাসাজ করুন। এটি চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করবে।
  • অকালে চুল পাকা রোধ করে ভেষজ এ তেল।
  • ১ কাপ পানিতে ১ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার, ১ চা চামচ মধু ও ১০ ফোঁটা আমলকীর তেল মেশান। শ্যাম্পু করার পর দ্রবণটি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। মাথার তালু ম্যাসাজ করুন ৫ মিনিট। তারপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন চুল।
  • নিয়মিত আমলকীর তেল ম্যাসাজ করলে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বাড়ে ও চুলের বৃদ্ধি দ্রুত হয়।
  • মাথার ত্বকের চুলকানি দূর করে আমলকীর তেল।
  • চুলে ঝলমলে ভাব আনতে আমলকীর তেল কুসুম গরম করে মাথার তালুতে ম্যাসাজ করুন। তারপর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
(সোর্স – বাংলা ট্রিবিউন)

মুখে দুর্গন্ধ


প্রিয়জন বা বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময়, ইন্টারভিউ বোর্ডে বা অপরিচিত কারও সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মুহূর্তে মুখের দুর্গন্ধ আপনাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিতে পারে। এ জন্য কমে যেতে পারে সমাজে আপনার মেলামেশা, গ্রহণযোগ্যতা। আপনি আক্রান্ত হতে পারেন হীনম্মন্যতা বা বিষণ্নতায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, প্রধানত মুখের খাদ্যকণা থেকে বিপাকীয় পদ্ধতিতে নির্গত জীবাণুসমূহ থেকে অ্যামাইনো অ্যাসিড তৈরি হয়, যা এই দুর্গন্ধের জন্য দায়ী।
এ সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের তিন ভাগে ভাগ করা যায়। সত্যিকারের মুখের দুর্গন্ধযুক্ত রোগী, কৃত্রিম মুখের দুর্গন্ধযুক্ত রোগী ও মুখের দুর্গন্ধ সম্পর্কে আতঙ্কিত/ভীত রোগী। সত্যিকারের মুখের দুর্গন্ধযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে
পরামর্শ:
  • মাড়ির প্রদাহের চিকিৎসা,
  • মুখের ও দাঁতের অন্যান্য চিকিৎসা,
  • মুখের যত্নের হাতে-কলমে শিক্ষা এবং
  • মুখের স্বাস্থ্য সম্পর্কে পরামর্শদান।
দুর্গন্ধের কারণ হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে কয়েকটি কারণকে চিহ্নিত করা যায়:
  • প্রতিবার খাবার গ্রহণে মুখের ভেতরে খাদ্য আবরণ দাঁতের ফাঁকে, মাড়ির ভেতর জমে থেকে দন্তমূল সৃষ্টি করে ও তা থেকে মাড়ির প্রদাহ হয়
  • মুখের যেকোনো ধরনের ঘা বা ক্ষত
  • আঁকাবাঁকা দাঁত থাকার কারণে খাদ্যকণা ও জীবাণুর অবস্থান
  •  মুখের ভেতরে ছত্রাকের সংক্রমণ
  • মুখের ক্যানসার
  • ডেন্টাল সিস্ট বা টিউমার
  • দুর্ঘটনার কারণে ফ্রেকচার ও ক্ষত
  •  অপরিষ্কার জিহ্বা
তা ছাড়া দেহের অন্যান্য রোগের কারণেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে, যেমন পেপটিক আলসার বা পরিপাকতন্ত্রের রোগ, লিভারের রোগ, গর্ভাবস্থা, কিডনি রোগ, রিউমেটিক বা বাতজনিত রোগ, ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র, হাইপার টেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ, গলা বা পাকস্থলীর ক্যানসার, এইডস রোগ, হৃদ্‌রোগ, মানসিক রোগ, নাক, কান ও গলার রোগ ইত্যাদি।
মুখের ও দাঁতের সমস্যাগুলো দূর করার পরও যদি দুর্গন্ধ থেকে যায়, তবে দেহের অন্যান্য সাধারণ রোগের উপস্থিতির পরীক্ষাগুলো করিয়ে নেওয়া ভালো। এ ছাড়া জীবনযাপনের পদ্ধতিতে আনতে হবে কিছু পরিবর্তন।
হরেক ব্র্যান্ডের মাউথওয়াশ/ স্প্রে ইত্যাদি ব্যবহারের ফল কত দূর পাওয়া যায়, তা বলা মুশকিল। তবে মুখে দুর্গন্ধ হলে ঘরে বসে আপনি যা করবেন:
  • একটি পরিষ্কার উন্নতমানের দাঁতের ব্রাশ ও পেস্ট দিয়ে দাঁতের সব অংশ ভেতরে-বাইরে পরিষ্কার করুন (তিন বেলা খাবারের পর)।
  • জিহ্বা পরিষ্কারের জন্য বাজারে স্টেইনলেস স্টিল অথবা প্লাস্টিকের সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
  • যেকোনো ধরনের মাউথওয়াশ (ক্লোরোহেক্সিডিন-জাতীয়) দুই চামচ মুখের ভেতরে ৩০ সেকেন্ড রেখে ফেলে দিয়ে আবার অল্প গরম লবণ পানিতে কুলকুচি করুন প্রতিদিন দুবার সকালে ও রাতে খাবারের পর।
  • মুখের ভেতরে একটি লং বা এলাচির দানা রাখুন।
  • মূল খাবারের আগে বা পরে প্রতিবার সম্ভব হলে দাঁত ব্রাশ করুন অথবা ভালোভাবে কুলকুচি করে ফেলুন।
  • ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য জর্দা, পান ইত্যাদি ত্যাগ করুন।
অধ্যাপক অরূপ রতন চৌধুরী
সাম্মানিক উপদেষ্টা, দন্ত বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল
সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৭